এজাহার ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মাদক উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ খান, এসআই জামাল হোসেন এবং এএসআই শরিফুল ইসলামসহ সংগীয় ফোর্স এই অভিযানে অংশ নেন।
রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে রূপসী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে ডিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, গন্ধর্বপুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে গন্ধর্বপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ফোর্সের সহায়তায় মো. সাকিব চৌধুরী ও মো. রাজু মিয়াকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে মোট ২৭ বোতল স্কাফ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মো. সাকিব চৌধুরীর কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ২০ বোতল ‘স্কাফ’ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ২ হাজার মিলিলিটার মাদক ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে মো. রাজু মিয়ার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে ৭ বোতল ‘স্কাফ’ (৭০০ মিলিলিটার) উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ হাজার টাকা। ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে রূপগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করে আসছিল।
পুলিশের সেন্ট্রাল ডাটাবেজ বা সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ নেতা সাকিব চৌধুরীর বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জ থানার এফআইআর নং-৪৭, এফআইআর নং-৭১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের এফআইআর নং-৫১ এবং এফআইআর নং-১৬ উল্লেখযোগ্য। পুলিশ জানায়, এই মামলাগুলোতে হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, মারধর, ডাকাতি এবং মাদক আইনের বিভিন্ন ধারা রয়েছে। নতুন এই মাদক মামলার পর সাকিবের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ৫টিতে।
এই ঘটনায় ডিবির এসআই মো. আরিফ খান বাদী হয়ে আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রূপগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, "মাদক কারবারিদের বিষয়ে জেলা পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট; কোনো অপরাধী বা তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে আপস করা হবে না। জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।"