জানা যায়, তার আপন ভাই আওয়ামী লীগ মনোনীত কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র। আওয়ামী লীগ
আমলে এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা এই মোগল করেন নি। নিজ আপন ভাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায়
দখল, চাঁদাবাজি ও খুনে লিপ্ত হয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় ত্রাসের এক আতঙ্কের নাম
ছিল মোগল।
হাসিনার আমলে মোগল ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী
গোলাম দস্তগীর গাজীর মনোনীত সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী। পূর্বে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পসহ
জমি দখলে গাজীর একমাত্র হাতিয়ার ছিলেন এই মোগল। পরবর্তীতে গাজীর ছত্রছায়ায় রাতারাতি
বনে যান কোটিপতি। রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দখল সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখে কালো টাকা উপার্জন
করে পারি জমায় দেশের বাহিরে।
এছাড়া আরো জানা যায়, আওয়ামী
লীগ সরকার পতনের পর দুবাই পারি জমান ডাকু মোগল। সেখানে নিজ খরচ যোগাতে নিজেকে জড়িয়ে
নেন স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসায়। একাধিকবার এসকল অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন বলেও
তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, দখল, চাঁদাবাজি,
খুনসহ প্রায় ১৫ টি মামলা রয়েছে মোগলের বিরুদ্ধে। তবে এসকল মামলা উপেক্ষা করে এখনো সক্রিয়
নিজ অপকর্মে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা ২টি মামলায়
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলে জানা যায়। তবে এত মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও
নিজ অবস্থানে এখনো সক্রিয় এই মোগল। এমনকি ৫ই আগস্ট-কে অস্থিতিশীলের লক্ষ্যে নিজ দলীয়
ক্যাডার বাহিনীকে সক্রিয় করে তুলছেন এই ডাকু মোগল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার একজন প্রতিবেশী
এমন গুরতর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া দেশের এক স্বনামধন্য
কোম্পানির সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে ৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন মোগল।
পরে সেই কোম্পানি তার নামে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারি করে। বর্তমানে সেই মামলায় পলাতক অবস্থায় রয়েছে মোগল।
নিজ এলাকায় খোঁজ নিয়ে
জানা যায়, পূর্বে তার মেয়র রফিক এর দাপটে এলাকায় অনেক ত্রাস সৃষ্টি করেছিলো এই ডাকু
মোগল। নিজেদের দাপট টিকিয়ে রাখতে বাদ দেননি এলাকার বিএনপি নেতাদের। স্থানীয় দুই জন
সাবেক মেয়র বাশার ও বাদশা-কে পরপর হামলা করেছিল মোগল ও তার ক্যাডার বাহিনী। তবে বর্তমানে
তাদের ভয়ে লিয়াজুর চেষ্টা চালাচ্ছে ডাকু মোগল। এছাড়া ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে কাঞ্চন পৌরসভার
নিজ দলীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রসুল কলি ও তার অনুসারীদের উপর কয়েক দফায় হামলার সত্যতা
মিলেছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরো
জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে হোম টাউন নামের এক আবাসন প্রকল্পের এমডি ছিলেন তিনি। সেসময়
তার নিজ ভাইয়ের দাপটে দখল করেন মানুষের শত শত বিঘা জমি। কেউ প্রতিবাদ জানালে তাদের
হামলা চালাতো মোগল। পাশাপাশি জমি দখলের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে নিজ গ্রাম কেন্দুয়া ও
মায়ারবাড়ী এলাকায় একাধিকবার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া চালিয়েছেন। গত ২০২১ সালের জুন মাসের
৩০ তারিখ নারায়ণগঞ্জ গ-সার্কেল সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আবির হোসেনের নেতৃত্বে মোগল
ও তার ভাই মেয়র রফিকের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে মামলা
হলেও পুনরায় নিজ অপকর্ম বহাল রেখেছিলেন ডাকু মোগল।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,
নিজ থানাধীন ভোলাব ইউনিয়নে রিভার ভিউ নামক একটি রিসোর্ট রয়েছে তার। স্থানীয় এক বাসিন্দা
চন্দন শাহ জানান, তার ২৪ শতাংশ জমি দখল করে এই রিসোর্ট গড়ে তুলেন মোগল। স্থানীয় বাসিন্দারা
জানান, “রিসোর্টে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাচ্ছে এই মোগল। আরও জানা যায়, ভ্যাট ট্যাক্স
ফাঁকি দিয়ে রিসোর্টে অসামাজিক কার্যকলাপ সহ নানা রকম অবৈধ ব্যবসা চলমান রেখেছেন তিনি।’’
রিভার ভিউ রিসোর্টে বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস উদ্দীন (অব.) শেয়ার
পার্টনার হিসেবে আছেন বলে লেন্স এশিয়াকে মুঠো ফোনে নিশ্চিত করেছেন মোগল। রিসোর্টের
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস উদ্দীন (অব.)-কে ফোন করা
হলে তিনি অভিযোগ গুলো মিথ্যা বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমি রিসোর্টের
দায়িত্বে আছি, এখানে ৭ বছর ধরে ব্যবসা চলমান এবং আজ পর্যন্ত আমার কাছে কোনো ভুক্তভোগী
আসেন নি। সম্পূর্ণ জমি ক্রয় করেই ব্যবসা চলমান রয়েছে। এছাড়া এখানে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ
হয়না। প্রতিবছরই সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমেই ব্যবসা চলমান রয়েছে।”
বর্তমানে মোগল বিভিন্ন
আবাসন প্রকল্পে জড়িত থেকে ব্যবসার নামে ফাঁকি দিচ্ছেন সরকারের কোটি কোটি টাকা। তবুও
অবৈধ সম্পদ অর্জন, বালু ভরাট, জমি দখল, একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ কার্যকলাপে
সক্রিয় রয়েছে মোগল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “প্রতিবাদ করতে পারিনা, কিছু বললেই তার বাহিনীরা
বাড়ি ঘরে হামলা চালায়, রাস্তায় মারধর করে।” সরকার ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে
নিজ অপকর্ম চলমান রেখেছে ডাকু মোগল।