২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা চলছিল। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
ফাইনালের দুই দিন পরই জাতীয় দল থেকে বিদায়ের কথাগুলো লিখেছিলেন মেসি। তবে তখন তা প্রকাশ করেননি। এক মাসের বেশি সময় পর সেই বার্তা প্রকাশ করে তিনি জানালেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার পথচলা শেষ।
মেসি লিখেছেন, অনেক চিন্তাভাবনার পর তিনি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, তবে এখন বিদায়ের সময় এসেছে বলেই তিনি মনে করছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সময় সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছেন মেসি। শুধু সাফল্যের সময় নয়, তার আগের কঠিন দিনগুলোতেও জাতীয় দলের জার্সির জন্য লড়াই করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদায়ের অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন মেসি। তার ভাষায়, জাতীয় দলের জন্য তার সবকিছু দেওয়ার চেষ্টা শেষ হয়েছে এবং এখন অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় সামনে আসছেন, যারা এই দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, গত ২০ বছর ধরে পাওয়া ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি ও উৎসাহ তিনি খুব মিস করবেন। তবে এখন থেকে একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে ভালো ও খারাপ সব সময়ে আর্জেন্টিনার পাশে থাকবেন।
বিদায়ী বার্তায় পরিবার, কোচ, সতীর্থ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি ও মুহূর্ত নিজের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন মেসি।
বার্তার শেষ দিকে নিজের লেখা নিয়ে একটি ব্যক্তিগত ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ফাইনালের দুই দিন পর অর্থাৎ ২১ জুলাই তিনি বিদায়ের এই কথাগুলো লিখেছিলেন। পরে বাবাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নিজের সিদ্ধান্তে তিনি আরও নিশ্চিত হন।
মেসির বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন ছিলেন তিনি।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয় মেসির। এরপর দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দেশকে এনে দিয়েছেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ৩৯ বছর বয়সে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।
শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে শেষ হচ্ছে মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়। যে আকাশি-সাদা জার্সিতে একসময় বড় শিরোপা জয়ের অপেক্ষা ছিল, সেই জার্সিতেই বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জিতে ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায় লিখেছেন তিনি।
এবার সেই দীর্ঘ পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটালেন লিওনেল মেসি।