পুলিশের একটি দল রাত ৮টার দিকে বগাকে গ্রেফতারের জন্য নগর ভবনে যায়। তিনি সেখানে অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, বগা বের হলে তাকে আটক করা হবে। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি মেয়রের কার্যালয়ে অবস্থান নেন এবং আর বের হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন ওই সময় তাকে নগর ভবনে দেখেছেন বলে জানান।
পরে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন নগর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় মেয়র তাকে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চলে যেতে বলেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ৯টার দিকে বগাকে গ্রেফতার না করেই নগর ভবন ছাড়ে পুলিশ।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর মেয়র নগর ভবন থেকে বের হলে বগার অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। এ সময় মেয়রের অনুসারীরা দুই সাংবাদিককে ধাক্কা দেন এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গাড়িতে ওঠার আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘আপনারা এখানে কী জন্য এসেছেন? সিটি করপোরেশনে একশ’ মানুষ আসবে। আপনারা চলে যান।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা ডিসি-উত্তরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে খুলশী থানার কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বৈঠক চলছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১২টার দিকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ডিসি-উত্তর কার্যালয়ে নেই। সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিমও ফোন ধরেননি।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় বগাকে গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। সে সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে একটি গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন থানায় বগার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তার গ্রুপের হাতে প্রতিপক্ষের এক কিশোর গ্যাং সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।