শুক্রবার (১১ জুলাই) WHO-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলের মাধ্যমে পুতুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তার নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত ফাউন্ডেশন থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যা অনৈতিক ও দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘সুচনা ফাউন্ডেশন’ থেকে এই অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পুতুলের অনুপস্থিতিতে WHO বাংলাদেশ অফিসের দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করবেন ডা. ক্যাথারিনা বোহেম, যিনি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে (SEARO) কর্মরত। তিনি আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশে এসে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
দুদক এর আগে জানুয়ারিতে পুতুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে। এমনকি এপ্রিল মাসে তার গুলশানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করে দুদক। পুতুলের নিয়োগ নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই আন্তর্জাতিক পদে নিযুক্ত হন। পাশাপাশি তার দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ভুয়া পেশাগত পরিচয়ের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করবে না। তবে এ ঘটনাকে WHO “অস্থায়ী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত” হিসেবে বিবেচনা করছে
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সুশীল সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন পদক্ষেপ দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহির একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে এটিকে একটি দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।