২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করতে আগামী তিন মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলে আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১।
রবিবার (২০ জুলাই) এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তদন্তের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করলে আদালত এই সময়সীমা নির্ধারণ করে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার একাধিক প্রভাবশালী সদস্য, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক,সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি,প্রধানমন্ত্রীর সাবেক শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান,প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
এছাড়া, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামরুল ইসলাম, উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, এবং রাজনীতিক রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম-এর নামও রয়েছে অভিযুক্তদের তালিকায়।
এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ৩৯ জন অভিযুক্তকে, বাকিরা পলাতক।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া দুটি মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সময়সীমা দুই দফা বাড়ানো হয়।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যার নির্দেশদানের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই সময় সরকারের দমননীতি ও সহিংসতা ঘিরে আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যারা গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিসরেও চলছে তীব্র আলোচনা ও নজরদারি।