ইরান যুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ভেদ করে ইরানি হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের ঘটনাগুলো এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। এর মধ্যেই পেন্টাগনের স্বীকারোক্তি এসেছে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা তাদের নেই।
সিনেটের এক শুনানিতে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক বারকোভিটজ জানান, হাইপারসনিক বা উন্নত ক্রুজ মিসাইল প্রতিহত করার মতো সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এই বক্তব্য দেশটির প্রতিরক্ষা দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের কৌশলগত মনোযোগ চীন ও রাশিয়ার দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির পরও ওয়াশিংটনের ধারণা, এই সংঘাতে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে, যা তাদেরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি একটি বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আকাশ ও মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলা প্রতিহত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও তা বেড়ে এখন ১৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, উন্নত ডেটা নেটওয়ার্ক এবং ট্র্যাকিং প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল মাইকেল গুইটলেইন জানিয়েছেন, খরচ আর বাড়বে না এবং নির্ধারিত সময়েই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘গোল্ডেন ডোম’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি শুধু সীমিত হামলা প্রতিরোধ নয়, বরং চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য বড় আকারের আক্রমণ মোকাবিলার লক্ষ্যেও তৈরি করা হচ্ছে। তবে সময়মতো কাজ শেষ করা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ— সব মিলিয়ে এই প্রকল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।