ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে আরও একটি বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেন। উইটকফও সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তবে আলোচনায় কী কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
পরবর্তী বৈঠক কোথায় হবে, তা অবশ্য জানাননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন ‘বিশাল সম্ভাবনা অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংসের’ মতো একটি সিদ্ধান্তের সামনে রয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও ইরানকে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান এমন একটি চুক্তিতে যেতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠিত হয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করতে পারে বলেও হুমকি দেন তিনি।
আলোচনায় শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা?
ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠককে ঘিরে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার প্রধান মার্কিন সংবাদদাতা অ্যালান ফিশার।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের জাতিসংঘের ভাষণ এবং একই সময়ে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে। তবে দুই দেশ কোনো ধরনের শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে পারে, এমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। তার দাবি, নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টি ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কেমন ফল করে, তা দেখার জন্য ইরান অপেক্ষা করছে।
তবে ইরান ইস্যুতে মার্কিন নির্বাচনের ফল তার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা