গত বুধবার (১৬ জুলাই) শাস পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইহুদি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্বের কারণে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতেই আরও একটি অতি-অর্থডক্স দল জোট ত্যাগ করেছিল। ফলে নেতানিয়াহু এখন কার্যত একটি সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করছেন—যা তার প্রশাসনের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইসরায়েলে সব নাগরিকের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও, অতি-অর্থডক্স সম্প্রদায় বহুদিন ধরেই এর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় শিক্ষা ও জীবনধারার কারণে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকার রাখে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার ও অতি-অর্থডক্স দলগুলোর মধ্যে বহুদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল।
তবে শাস পার্টি জানিয়েছে, তারা সরকারের বাইরে গেলেও নেতানিয়াহুর জোটকে সরাসরি পতনের দিকে ঠেলে দেবে না। দলটি জানিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে তারা সরকারের পক্ষে ভোট দিতে পারে, কিন্তু সরকারের পতনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবে না।
শাস পার্টির পদত্যাগের পর ইসরায়েলের বিরোধী এক নেতা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “নেতানিয়াহু এখন একটি অবৈধ সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করছেন। এ সরকার গাজা যুদ্ধ কিংবা সৌদি আর সিরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈধতা রাখে না।”
যদিও শাস পার্টির জোটত্যাগ নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সরকার পতনের সম্ভাবনা নেই। তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে তার সরকারকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।