জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রোসি বলেন, যখনই নিউইয়র্ক বা ভিয়েনায় ইরানকে ঘিরে নতুন কোনো প্রস্তাব ওঠে, তখন তেহরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা কিছুটা কমিয়ে দেয়। বিষয়টিকে “দুঃখজনক” বলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ বা ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর জবাবে তেহরান আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়। তবে গ্রোসি জানান, ইরানি কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা এখনো এনপিটির কাঠামোর মধ্যেই থাকবে, যা তিনি “একটি যুক্তিসঙ্গত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেন।
গ্রোসি আরও জানান, গত জুন মাসে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে আইএইএ তাদের পরিদর্শক দল সাময়িকভাবে ইরান থেকে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে সংস্থাটি তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিতভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “না, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে না, এবং অতীতেও বানায়নি। আমি এটি একেবারে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।”
তিনি আরও জানান, আইএইএর জুন মাসের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে— ইরানের এমন কোনো কার্যক্রম নেই যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি— ই-থ্রি (E3) দেশগুলো ঘোষণা দেয় যে তারা ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া সক্রিয় করছে, যার মাধ্যমে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে। তারা অভিযোগ করে, ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) লঙ্ঘন করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিরোধের সূত্রপাত ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক টানাপোড়েনে পড়ে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশ অভিযোগ করে আসছে— ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তেহরান বারবার জানিয়ে এসেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বেসামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।