স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অগ্নিসন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে বিকেল ৩টায় কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের উদ্যোগে কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। একই দিন বিকেল ৫টায় উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বেও পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।
বিকেলে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে থানার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থক সবুজ ও ছোটন আহত হন। তাদের প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপর পক্ষের আল ইমরান হোসেনও আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিপুল হোসেন, আজমির হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সবার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসানুর রহমান অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থকেরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, তারাও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। শেখ হাসানুর রহমানের সমর্থকেরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, মূল সংগঠনের কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে আরেকটি কর্মসূচি চলছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষের লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।