জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযান চালায়। প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসংগতি’ পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ডের অনুমোদিত গুদাম দুটি হলেও অভিযানে সেখানে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান বলেন, অনুমোদনের বাইরে দুটি গুদামে মজুতের প্রমাণ পাওয়ায় এগুলো সিলগালা করা হয়েছে। তদন্তের জন্য বন্ড কমিশনারেট থেকে প্রয়োজনীয় নথিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, টস বন্ড কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে। তবে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল। অভিযানের সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে।
এদিকে এনবিআরের সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে পাওয়া তথ্যও যাচাই করছে। কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, টস বন্ডের বিষয়ে তদন্তটি সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়; প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আগ থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে। এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান রয়েছেন।
বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।