শনিবার রাতে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় আইজিপি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের পেছনে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশই হতে পারে জনগণের আস্থার প্রতীক।”
আইজিপি আরও বলেন, “যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পুলিশের কাজ আইনের সীমার মধ্যেই হতে হবে। দায়িত্ব পালনে কেউ যেন পক্ষপাতদুষ্ট না হয় বা কাউকে সন্তুষ্ট করার মানসিকতা না রাখে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “গত ৫ আগস্ট পুলিশ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। ধীরে ধীরে সেই সময় অতিক্রম করে এখন বাহিনী নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিছু দুর্বলতা রয়ে গেলেও আমরা পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে চলেছি।”
আইজিপি বলেন, “সমাজে পুলিশের প্রতি যেমন প্রত্যাশা আছে, তেমনি সমালোচনাও রয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব থেকে পুলিশ কখনো সরে যায়নি—এই দৃঢ়তা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পুলিশের জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে আস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ। “অতীতের ভুল সংশোধন করে সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে,” বলেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার)।
এর আগে আইজিপি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত সমস্যার বিষয়ে মতামত শোনেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।