ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন নিয়ে আগস্ট মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপিও এতে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চলতি অর্থবছরে এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও স্কিমগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ অর্থবছরে জিওবি ও প্রকল্প সাহায্য মিলিয়ে ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যেন আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুবিধা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রজেক্টরের মাধ্যমে ই-লার্নিং কার্যক্রম এবং গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়াতে হবে। তারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে উঠে দেশের মানবসম্পদ ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
পার্বত্য এলাকার নারীদের দীর্ঘদিনের পানি সংগ্রহের কষ্টের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান তৈরির কথাও বলেন তিনি।
প্রত্যন্ত এলাকায় সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো এবং ভূমিধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকার কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থী—যোগ্যতা থাকলে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মেধাবী তরুণদের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মংসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।