আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূচনা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, আন্দোলন দমনে সহিংসতা, প্রাণহানি, গণগ্রেপ্তার, কারফিউ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি দ্রুত সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
জুলাইজুড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ, অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। প্রবল জনচাপের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
জাতীয় কর্মসূচি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সজ্জিত করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিভিন্ন দলের কর্মসূচি
দিবসটি সামনে রেখে মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ করবে।
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, দোয়া, সমাবেশ, স্মরণানুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিনটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে দোয়া, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন স্মরণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।