জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব আসে। তার দাবি, ওই মহল নিজেদের ‘সহযোগিতা’ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিল, যাতে সরকার নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিনও উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তেল সংকট তৈরি করা হতে পারে। তিনি বলেন, তার অভিজ্ঞতায় সাধারণত দুই মাসের মজুত থাকার কথা থাকলেও অল্প সময়েই সংকট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক।
বিএনপির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে বসানো গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে। একই ব্যক্তিরা প্রশাসক এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে এনসিপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে সে পথ থেকে সরে গেলে দলটি জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবে।
গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশে বিএনপির প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান আসিফ মাহমুদ। তার মতে, এমন উদ্যোগ দলটির অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।
সভায় সারোয়ার তুষার বলেন, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনে বিএনপি সুবিধা পেলেও বারবার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এবারের পরিস্থিতিতেও তারা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আস্থা ধরে রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।