জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারিয়ে দেশত্যাগের পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও নিজের মাতৃভূমিতেই ফিরে যেতে চান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা ও দমন-পীড়ন চলছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। এজন্য তিনি দলের নেতাদের উদ্দেশে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশে ফেরা বা আত্মসমর্পণের বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। তবে বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও বিভাজনের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও এর আগে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও বলেন, তিনি বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রাখেন এবং আদালতের মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতে চান। তার দাবি, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে জনগণ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনে এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় কয়েকবার আটক হন তিনি। এছাড়া ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার সরকারের পতন ঘটে, সেই সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন তিনি। তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের হাতে থাকা উচিত এবং সেই সিদ্ধান্ত জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
সূত্র: রয়টার্স।