এ প্রেক্ষাপটে গায়েবানা জানাজা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। গায়েবানা জানাজা বলতে এমন জানাজাকে বোঝায়, যেখানে মৃতদেহ উপস্থিত নেই; দূরবর্তী স্থানে থাকা ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে নামাজ আদায় করা হয়। আধুনিক সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনা, প্রবাসে মৃত্যু কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে এ ধরনের জানাজা আয়োজনের প্রবণতা দেখা যায়।
ফিকহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। হানাফি ও মালেকি মাজহাবের ইমামগণ মনে করেন, জানাজা সহিহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে থাকা শর্ত। তাঁদের মতে, নবী (সা.)-এর যুগে বহু সাহাবি দূরদেশে শহীদ হলেও গায়েবানা জানাজার নিয়মিত চর্চার প্রমাণ নেই। খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলেও এমন নজির পাওয়া যায় না। ফলে তাঁরা একে শরিয়তের সাধারণ বিধান হিসেবে স্বীকৃতি দেন না।
অন্যদিকে শাফেয়ী ও হাম্বলি মাজহাবে ভিন্ন মত পাওয়া যায়। তাঁদের মতে, যদি মৃত ব্যক্তি অন্য শহর বা দেশে থাকেন এবং সেখানে জানাজার ব্যবস্থা না হয়, তাহলে গায়েবানা জানাজা আদায় করা যেতে পারে। তবে একই শহরে মৃতদেহ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও গায়েবানা জানাজা পড়া বৈধ নয় বলে তাঁরা মত দেন।
নাজাশী (রহ.)-এর জানাজার ঘটনাটি এ আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে জানাজা আদায় করেন। অনেক মুহাদ্দিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাজাশীর দেশে তখন জানাজা পড়ার মতো মুসলিম ছিল না; তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ আলেমের মতে, এটিকে সাধারণ বিধান হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়।
সমসাময়িক আলেমরা বলেন, যদি কোথাও জানাজার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে অন্যত্র গায়েবানা জানাজা আদায়ের প্রয়োজন নেই। তবে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা এমন পরিস্থিতি যেখানে জানাজা আদায়ের সুযোগই হয়নি, সেখানে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, গায়েবানা জানাজা নিয়ে ইসলামী আইনশাস্ত্রে মতভেদ বিদ্যমান। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় আলেমদের পরামর্শ ও শরিয়তের মূলনীতি বিবেচনায় রাখাই উত্তম।