মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
গত ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানও ওই তালিকায় ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনার সময় সাময়িকভাবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, তা নিশ্চিত করা।
তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময়ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন।
এখন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হওয়ায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন।
স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা ৭৫ দেশ
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস ও লেবানন।
এ ছাড়া তালিকায় ছিল লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি গত ২১ আগস্ট বাতিল করে রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত।
রায়ে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসার আবেদন নিয়ে যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তা স্পষ্টতই বেআইনি এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালত আরও বলেন, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা রয়েছে। বিচারকের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস