ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। রাজধানী প্যারিসে মিছিলের শুরুতে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও শেষ দিকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ব্যারিকেড ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। একটি গাড়ির শোরুমেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্যারিসের বাইরে মার্সেইয়ে আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়া এবং সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। বোর্দোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। লিওঁতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ বলেন, প্যারিসের মিছিলে কয়েক হাজার উগ্রপন্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর শাসনামলে কর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়েছে, অথচ সাধারণ মানুষের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তবে অর্লেয়াঁ শহরে ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ অংশ নিলেও সেখানে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
ফ্রান্সের বাইরে ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। বার্সেলোনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। ব্রাসেলস ও মিলানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগের সপ্তাহে ফ্রান্সে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন বলে হিসাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন এবং দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির চেম্বার অব কমার্সের হিসাবে, ওই বিক্ষোভে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডে এক বিক্ষোভকারী হাত হারান। ওই সময় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্যও জানানো হয়েছিল।
ফ্রান্সে ছয় মাস পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে চলমান সংকট নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা মাখোঁ ও তাঁর সরকারের সমালোচনা আরও জোরালো করেছেন।