জেনারেল ডিবেটের সূচনায় বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও বিভাজন বাড়ার পাশাপাশি জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিভিন্ন ‘ফাটল’ আরও স্পষ্ট হচ্ছে এবং একই সময়ে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে যাচ্ছে।
বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় শুধু সামরিক, অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক আইন ও জবাবদিহির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান গুতেরেস। ইউক্রেন যুদ্ধের কথাও তার বক্তব্যে আসে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার সমালোচনা করে তিনি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ায় উদ্বেগ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। জলবায়ু সংকটকে প্রজন্মের মধ্যে বৈষম্যের অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
এবারের অধিবেশনে প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার। এরপর বক্তব্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী জেনারেল ডিবেটে প্রথমে ব্রাজিল এবং এরপর আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বক্তব্য দেয়।
এবারের সাধারণ পরিষদের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনঃস্থাপন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। এবারের আলোচনায় যুদ্ধ ও ভূরাজনীতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু, জ্বালানি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেনারেল ডিবেটে অংশ নেবেন।
এ অধিবেশনটি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের শেষ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন। চলতি বছরের শেষ দিকে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।