প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন একটি প্রস্তাব বিনিময় করেছে তেহরান। সেখানে ইরান যুদ্ধবিরতি ও অবরোধ শিথিলের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিল আলোচনাকে আপাতত আলাদা পর্যায়ে রাখার অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
সূত্র অনুযায়ী, ইরান সরাসরি নয় বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথমে সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। এরপর আলাদা একটি ধাপে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
অ্যাক্সিওস বলছে, এই নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি হরমুজ ইস্যুতে ছাড় দেয় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর চাপ কমায়, তাহলে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য করার চাপও অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এতে করে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা পেতে পারে।
এদিকে, পাকিস্তান সফর শেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সফর এবং হরমুজ নিয়ে নতুন এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।