টানা ২৫ দিন সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল সীমিত পরিসরে চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় গত তিন দিন ধরে এক্সিলারেটের সরবরাহ ক্রমাগত কমছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনালে প্রয়োজনীয় এলএনজি মজুত না থাকায় শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, দ্রুত এলএনজি সংগ্রহের জন্য নিয়মিত দরপত্রের বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গোর অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। চলতি আগস্টে চারটি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনোটিই পৌঁছায়নি। ফলে টার্মিনাল চালু রাখার মতো মজুত না থাকায় সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে গত শনিবার টার্মিনালটি পুনরায় সরবরাহের উপযোগী হলেও নতুন এলএনজি কার্গো না থাকায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই মজুতও কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের আগে এক্সিলারেটের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। ফলে অন্তত কয়েক দিন টার্মিনালটি বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
তবে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) একটি নতুন এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হলে সামিটের মাধ্যমে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে এর মধ্যে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট।
দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে বন্ধ থাকার সময় গত শুক্রবার জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কমে ১৬৪ কোটি ঘনফুটে নেমেছিল। পরে সামিট চালু হলে শনিবার সরবরাহ বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুট হয়। এরপর রোববার তা ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার এক্সিলারেট পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর মোট সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১৮ কোটি ঘনফুটে।
এদিকে, মঙ্গলবার এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বুধবার তা কমে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।