পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়। দেশটি কখনো মাথা নত করবে না বা হাঁটু গেড়ে বসবে না। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বা অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ইরান সেখানে শক্তিশালী প্রতিবেশী চায়, কিন্তু যারা ইরানের জনগণের জন্য অনিরাপত্তা তৈরি করবে, তাদের হরমুজ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি থেকে কেউ সুবিধা নেবে, আবার একই পথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে—এটা মেনে নেওয়া হবে না।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই জলপথটি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না; শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারই তাদের লক্ষ্য। এই প্রযুক্তি কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকারও বিরোধিতা করেন তিনি।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল মনে করে, এর মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বলে আসছে, তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।’
ভাষণের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জনগণ বরং সন্ত্রাসবাদের শিকার।
এ সময় তিনি প্রয়াত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি দেখান। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রথম দিন তেহরানে খামেনির অবস্থানে বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও জাতিসংঘে দেখান পেজেশকিয়ান। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল বলে ইরান দাবি করলেও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে জাতিসংঘের একটি তদন্ত মিশন জানিয়েছিল, ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।