গত ৩ জুলাই, মস্কো সরকার তালেবানের মনোনীত দূত গুল হাসান হাসানের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে তালেবানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর আগে, ২০০৩ সাল থেকে রাশিয়া তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলেই সেই তকমা তুলে নেওয়া হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে "বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ" বলে উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার দৃষ্টিতে, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণসহ জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমে তালেবানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষত, আইএসআইএস-কে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তালেবানদের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়াকে আকৃষ্ট করেছে।
তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আমির খান মত্তাকী রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তকে "ঐতিহাসিক" আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই সাহসী পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
চীন, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারসহ কিছু দেশ আফগানিস্তানে কূটনৈতিক মিশন চালু রাখলেও এখনও পর্যন্ত রাশিয়া ছাড়া কেউই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
তবে পশ্চিমা বিশ্ব এখনো নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। রাশিয়ার এই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তালেবান ইস্যুতে আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।