এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তেজনা বজায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের পর নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্লেষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রায় সাত সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে। পাশাপাশি টমাহক, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশও ব্যবহৃত হয়েছে।
যদিও উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ঘাটতি পূরণে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষেত্রে বর্তমান মজুত যথেষ্ট নাও হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্র সংকটে নেই। তবে সামরিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল এবং ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে অস্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আলোচনার প্রস্তুতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তেহরানের সাড়া না মেলায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা এগিয়ে না গেলে এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।