শুক্রবার (৩১ জুলাই) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চুক্তি অনুযায়ী হামাস তাদের সব অস্ত্র ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করবে। পাশাপাশি গাজার নির্ধারিত এলাকাগুলো ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ অসামরিকীকরণ করা হবে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নবগঠিত আইএসএফ বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হবে গাজার জন্য নতুন পুলিশ বাহিনী গঠনে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং হামাসের টানেল নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ দিন সময় লাগতে পারে।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের আন্তর্জাতিক বাহিনী একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ এই বাহিনীতে সেনা পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি গাজী হামাদ বলেন, গাজার নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না; জাতীয় কমিটিই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও শান্তি চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে না।