এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক B-2 স্টিলথ বোমার এবং GBU-57 "বাংকার বাস্টার" বোমা ব্যবহার করেছে, যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার জন্য তৈরি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের পরমাণু বোমা তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ করা।”
এই হামলা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়েছে। ১৩ জুন ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ইরানকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানালেও, তা না মেনে কয়েক দিনের মধ্যেই সামরিক হামলা চালিয়ে দেয়।
মার্কিন রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানদের অনেকেই হামলাকে প্রয়োজনীয় ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করলেও ডেমোক্রেটরা এটিকে ‘অসংবিধানিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন হামলা চালানোকে বিপজ্জনক ও যুদ্ধ উসকে দেওয়া পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা। এমনকি কিছু রিপাবলিকান নেতা (যেমন থমাস ম্যাসি ও মারজোরি টেইলর গ্রিন) পর্যন্ত এই হামলার বিরোধিতা করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহল থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, “এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনার সূচনা।” অপরদিকে, ইরান এই হামলার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে রেখেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ঘাঁটি, বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তরে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করার হুমকিও দিয়েছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’-এর দাবি করলেও ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, আগেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমিত। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী যেমন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী বা লেবাননের হেজবোল্লাহও যুক্ত হতে পারে সংঘাতে।
বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় আকারের সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আলোচনায় গড়াবে, নাকি আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে এগোবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।
সূত্র: BBC, NY Times, Reuters