পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই পদত্যাগ করবেন না। বুধবার কালীঘাটে দলীয় জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
তবে এই বৈঠকে কয়েকজন বিধায়কের অনুপস্থিতি দলীয় মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও ফলাফল মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী। বিষয়টি আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মমতা জানান, আইনি লড়াইয়ে তিনি নিজে ছাড়াও দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে নতুন সরকারের শপথের দিন দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দলের ভেতরে ভাঙনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি। কঠিন সময়ের মধ্যেও দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন। কর্মীদের একজোট থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ অন্তর্ঘাতে জড়িত থাকলে তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে।
নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে শিগগিরই একটি তদন্ত দল মাঠে নামবে। একই বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেছেন, ভোট-পরবর্তী সহিংসতা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা কি অন্য কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগে যুক্ত হয়েছেন, নাকি দলের ভেতরের অসন্তোষ থেকেই দূরে রয়েছেন—তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সরকার শপথ নেবে। এর মধ্যে পদত্যাগ না করলে মমতা স্বাভাবিকভাবেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানে চলে যাবেন। প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য রাজ্যপাল প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে পারেন বলেও জানা গেছে।