যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রের তলদেশের কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের রিচার্ড হান্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের বদলে ইরানে ফের সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে, এমন খবরই তেলের দাম বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। তাঁর মতে, সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে অনেকে ধারণা করলেও তা এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে।
ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ দিকে তা বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছায়।
চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরব থেকে কিছু মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিও পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।