এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম শনিবার (২০ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনে এখনো নানা ধরনের পক্ষপাত লক্ষ্য করা যায়। কেউ বিএনপিপন্থি, কেউ জামায়াতপন্থি, আবার কেউ পূর্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এই ভিন্ন আচরণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এবার তারা অনেকটাই পার পেয়ে গেছে। আগামীতে যদি এই স্বৈর আচরণ চালু থাকে, বড় কোনো ঘটনা ঘটলে কেউ আর আশ্রয় পাবেন না।”
সারজিস আলম আরও বলেন, “যদি আমাদের শাপলা প্রতীক পেতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজপথে যেতে হয়, আমরা একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও অংশ নেব।” তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, “দলীয় চাপের বাইরে থেকে প্রশাসন কাজ করুন। উচ্চ আদালতে আওয়ামী লীগের দোসররা এখনো গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও আসামিদের বিষয়ে প্রভাব ফেলছেন। টাকার বিনিময়ে বা রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে।”
এনসিপি নেতা আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় যদি কঠোর না হন, তাহলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও দেশের স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়বে।” তিনি জুলাই সনদ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশের জন্য এই সংস্কার ও প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে এককভাবে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্ব দিতে পারবে না, সেখানে এনসিপির অংশগ্রহণ জরুরি।
সারজিস আলম নিশ্চিত করেছেন, আইনগতভাবে শাপলা প্রতীক পেতে এনসিপির কোনো বাধা নেই। তবে, নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতিত্ব অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে তাদের ওপর আস্থা রাখা যাবে না।
তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির ও দিদার শাহ।