রোববার (২৭ জুলাই) বিকেলে শেরপুরে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ মাহবুব চত্বর থেকে এনসিপির পদযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে থানা মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমান্ত নীতির ব্যর্থতা, অভ্যুত্থানের বিচারহীনতা এবং প্রশাসনে দলীয় দোসরদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশইন বরদাশত করা হবে না। সরকারের ব্যর্থতায় এসব ঘটছে এবং দিল্লিতে পালিয়ে থাকা সাবেক ক্ষমতাসীনদের দোসররা সেখান থেকেই ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানে সংগঠিত গণহত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারের কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং প্রশাসনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রয়ে গিয়ে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।
তিনি শেরপুরবাসীর দুঃখ দুর্দশা তুলে ধরে বলেন, শেরপুরে হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসাসেবা নেই, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নাজুক এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত। অথচ দুর্নীতিবাজ ও দোসরদের উন্নয়ন হয়েছে যারা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পলায়ন করেছে।
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, দেশের প্রতিটি সেক্টর অতীতে কিছু ধান্দাবাজদের হাতে ছিল। অভ্যুত্থানের পরও তারা শুদ্ধির আওতায় আসেনি, বরং আবারও সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্লোগান দিয়ে নয়, সংকটে পাশে থাকার মাধ্যমে প্রকৃত কর্মীর পরিচয় মেলে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কর্মীর দরকার নেই, বরং দরকার সংকটকালে যারা রাজপথে থাকবে সেই নির্ভরযোগ্য কর্মী। তিনি নিজ দলের এক কর্মীর চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গে বলেন, যদি দলের কেউ অপরাধ করে, তবে আগে আপ্যায়ন করে থানায় দিন। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে যেসব শিশু মারা গেছে, সেই ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এনে বিচারের দাবিও জানান তিনি।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমীনসহ অন্যান্য নেতারা।