মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “গত বছরের জুলাই-আগস্টে যে তরুণ-ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়েছে, তাদের আত্মদান ছিল কেবল শেখ হাসিনার পতনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কখনো স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজপথে নেমেছিল। অথচ বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশ আবারও সেই পুরোনো তিমিরে ফিরে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা হতে দেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, স্বৈরতন্ত্র রোধের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হলো পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা। এ ব্যবস্থায় জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে, একক আধিপত্যবাদ বা কারসাজির সুযোগ থাকবে না। তাই আমরা নতুন করে আন্দোলনে নামতে যাচ্ছি। তরুণদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক দলের লোভ বা ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।”
ইসলামী আন্দোলনের আমির জানান, এ দাবির অংশ হিসেবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলায় গণসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার প্রতিটি থানায় গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ হবে। একই সঙ্গে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনমত জোরদার করতে লিফলেট, পোস্টার ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রী জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু জনগণ আর কোনোভাবেই স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার নির্বাচন চায় না। প্রয়োজনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধাপে ধাপে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে এবং তা থেকে একচুলও পিছপা হবে না। সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—পিআর পদ্ধতিকে জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য তুলুন, প্রয়োজনে গণভোট দিন। যারা পিআরের বিরোধিতা করছেন তারা মুখে গণতন্ত্রের বুলি কপচাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে জনগণের রায়ের প্রতি আস্থাহীন।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, “দেশকে কোনো দলীয় স্বার্থে জিম্মি করে রাখা যাবে না। জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সরকার যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বিশেষ স্বার্থে নতিস্বীকার করে, তবে তা হবে দেশের জন্য অস্থিরতা ডেকে আনা।”
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদারসহ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য, কৃষি ও শ্রম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মুক্তিযুদ্ধ, সংখ্যালঘু ও আঞ্চলিক সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে অংশ নেন এবং সম্মিলিতভাবে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সর্বাত্মক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন