রবিবার (৩১ আগস্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে আবারও একটি নীলনকশার নির্বাচন করা যায় কি না, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে না হেঁটে যদি কোনো পরিকল্পিত ডিজাইনের দিকে সরকার এগোয়, তা দেশের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক হবে না।
ডা. তাহের বলেন, তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন যে বর্তমান সরকারকে দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুর ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “সরকার যদি হাত-পা ছেড়ে দেয়, তাহলে দুষ্কৃতিকারীরা সুযোগ নেবে। আমরা বলেছি, আগে আপনারা যা ছিলেন, এখন তার চেয়েও শক্তিশালী ও কঠোর হতে হবে।”
তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা ‘ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দালালদের’ অবিলম্বে সরিয়ে দিয়ে দলনিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
ডা. তাহের বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হলেও একটি দল এর বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন এবং গণ অধিকার পরিষদসহ প্রায় ৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দলই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে। তিনি বলেন, মেজরিটির মতামতকে অবজ্ঞা করে যদি পুরোনো ঐতিহ্য মেনে নির্বাচন করা হয়, তবে পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকা দলগুলোর জন্য নির্বাচনে যাওয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনী ট্রেন ছাড়লেও এখনো প্ল্যাটফর্ম পার হয়নি।" অর্থাৎ, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও এখনো সময় আছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সব বাধা দূর করে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে জামায়াত দৌড়ে গিয়ে সেই ট্রেনে উঠবে।
ড. ইউনিস তিনটি বিষয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন: কিছু বিষয়ে সংস্কার, বিচারকে দৃশ্যমান করা এবং বিশ্বমানের নির্বাচন। ডা. তাহের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলেই তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি জনগণের সন্তুষ্টি ও সম্মতি ছাড়া নির্বাচন হয়, তাহলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।