অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। দলীয় সূত্র জানায়, ২৬টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র ধরে ইশতেহারটি সাজানো হয়েছে।
প্রথম অংশে বৈষম্যহীন, মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে—যেখানে শাসনব্যবস্থার সংস্কার, কার্যকর সংসদ, নির্বাচনি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দুর্নীতি দমন এবং উন্নত বিচারব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী অংশে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুব নেতৃত্বের বিষয়গুলো ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। নারী-শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও এতে যুক্ত রয়েছে।
জামায়াত দাবি করেছে, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত নিয়ে এই ইশতেহার প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়।
ইশতেহারে ২৬টি অগ্রাধিকারসমূহ সংক্ষেপে:
১. জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপসহীন রাষ্ট্র।
২. ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অগ্রাধিকার।
৪. নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।
৫. মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন।
৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ।
৭. কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান; মেধাভিত্তিক নিয়োগ।
৮. ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার করে বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি।
৯. সমানুপাতিক পদ্ধতিসহ নির্বাচনি সংস্কার ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ।
১০. বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ।
১১. ‘জুলাই’ সংশ্লিষ্ট ইতিহাস সংরক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন।
১২. প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি বিপ্লব।
১৩. ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ‘তিন শূন্য’ লক্ষ্য।
১৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ও শিল্পায়ন সম্প্রসারণ।
১৫. শ্রমিকের মজুরি, কাজের পরিবেশ ও নারীদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র।
১৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ।
১৭. সকল নাগরিকের সমান অধিকার; পিছিয়ে পড়াদের বিশেষ সহায়তা।
১৮. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা।
১৯. শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ও ধাপে ধাপে বিনামূল্যে শিক্ষা।
২০. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ।
২১. সড়ক ও রেলযোগাযোগ উন্নয়ন; আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার।
২২. নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন।
২৩. ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপে বিচার ও সংস্কার অব্যাহত রাখা।
২৪. সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো।
২৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে কল্যাণরাষ্ট্র গঠন।
২৬. সৎ নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র।