বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বিমানযোগে সৈয়দপুরে পৌঁছান গোলাম পরওয়ার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল টিমের সদস্য আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্যই বিরোধী দলের এলাকাগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াতকে ভোট দেওয়া মানুষ এ দেশের নাগরিক নন। তাদের যেন কোনো অধিকার নেই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বলেন, বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অথচ জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের এলাকায় বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের জন্য নির্ধারিত সাধারণ বরাদ্দও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের নামেও বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এমপিদের স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদের কারণে এমপিরা দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারছেন না।
এ ধরনের বিধান পরিবর্তন করা দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ কারণেই সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে তারা দাবি জানালেও সরকার তা বাস্তবায়ন করবে না। কারণ জনগণের সরাসরি ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও সরকার মানছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরে সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করতে রওনা হন গোলাম পরওয়ার।