গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির এক নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানের সঙ্গে যুক্ত আইজিডব্লিউ অপারেটরদের পৃথকভাবে সুইচ স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে অপারেটররা সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা দিতেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ব্যবস্থায় ফার্স্টকমের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফার্স্টকমের কাছে অন্যান্য অপারেটরের প্রায় আড়াই কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া কোম্পানিটিকে যৌথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিরোধিতা করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট অপারেটররা।
বকেয়া ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফার্স্টকমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানিটির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ প্রত্যাহার করা হয়। চলতি বছরের ১৬ মার্চ পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ফার্স্টকমের বকেয়া নিয়ে বিটিআরসির প্রকাশিত বৈঠকের কার্যবিবরণীকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি। এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে কার্যবিবরণীতে অসংগতির অভিযোগ তোলা হয়।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই আইজিডব্লিউ অপারেটরদের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফার্স্টকমে এস আলমের বেনামি মালিকানায় ৭৭ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত এস আলম ও তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্ট ৪২টি কোম্পানির অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। ওই তালিকায় ফার্স্টকমের বড় শেয়ারধারী দুটি প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর