জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকারিভাবে ৩৫ লাখ টাকা, ২৯৫ মেট্রিক টন চাল এবং ২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার তুলনায় এ সহায়তা অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। হিসাব অনুযায়ী, নগদ বরাদ্দ মাথাপিছু প্রায় ৩২ টাকা এবং চালের পরিমাণ প্রায় ২৭০ গ্রাম করে দাঁড়ায়।
এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৫৪৬ জন শুকনো খাবারের সহায়তা পেয়েছেন। ফলে জেলার বড় একটি অংশ এখনো সরাসরি সরকারি সহায়তার বাইরে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে অনেক জায়গায় সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি।
জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২৫টি সেতু-কালভার্ট এবং ৫৪৬ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিখাতে ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে এবং মৎস্য খাতে প্রায় চার কোটি টাকার ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন। বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফারুয়া এলাকায় প্রায় দুই হাজার বসতঘর পানিতে ডুবে যায় এবং শতাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যার সময় উপজেলার বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্তমানে কিছু পরিবার এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের নৌযান সহায়তা এবং ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সুশীল সমাজ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় পুনর্বাসনের জন্য আরও বড় পরিসরে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।