মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদের কেবিনেট কক্ষে কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা সংবিধান সংশোধন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিরোধী দলগুলোর দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে কোনো পক্ষ পরিবর্তন আনতে চাইলে সে বিষয়েও আলোচনা করা যেতে পারে। জুলাইয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আরও মতবিনিময় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকতে পারবেন—এ অবস্থান থেকে বিএনপি সরে আসেনি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকার যে প্রস্তাব এসেছে, তা বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সংসদে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট আয়োজনের কথাও বৈঠক শেষে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে।
বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
অন্যদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দেন। বিজেসির চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সংবিধানে নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।