বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, তরুণ-যুবক, নারী, শিশু এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ, দমন-পীড়ন ও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হলেও জনগণের আন্দোলন থামানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির দাবি করেন, আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত, পঙ্গু ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তবে বিভিন্ন কারণে সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান অতীতের বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ, মানবিক, সার্বভৌম ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে দেশবাসীকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণের আহ্বান জানান।