বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয় বলে বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চুক্তিতে বিমানের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন সই করেন।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তির মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সেগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। নতুন ১১টি উড়োজাহাজের দাম এখনও জানানো হয়নি। দুই চুক্তি মিলিয়ে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা।
চুক্তি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এবং উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তার বিষয়ে আস্থার কারণেই এই চুক্তি করা হয়েছে। দেশের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিচালন সক্ষমতা, নমনীয়তা ও দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও সহজ হবে।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা বলেছিলেন, বিমান দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটির সহায়তাকারী কর্মী ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের উড়োজাহাজের প্রতি বিমানের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে জানান তিনি।