বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মাথায় গুলির ক্ষত এবং শরীরে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন বহনকারী শেখ আজিজুরের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল রক্তমাখা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার। সাক্ষাতে তিনি সেই ইচ্ছা পূরণ করেন।
সম্প্রতি শেখ আজিজুরকে নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ পান। পরে আজিজুরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী আজিজুরের চিকিৎসা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনসংগ্রাম এবং সিএনজি চালিয়ে পড়াশোনার খরচ বহনের বিষয় জানতে চান। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেন।
সাক্ষাৎ শেষে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজ নিয়েছেন, যা তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে।
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথার রক্তক্ষরণ ঠেকাতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন, যা রক্তে ভিজে যায়। পরে ১৯ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান।
এদিকে, শেখ আজিজুরের দাবি, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আন্দোলনে গুরুতর আহত হলেও দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। জীবিকা ও পড়াশোনার খরচ চালাতে বর্তমানে তাকে সিএনজি চালাতে হচ্ছে।