পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ১১০টি অপহরণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসিক গড় ৮৫–১০৫ জনের মধ্যে ওঠানামা করেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রথম ১০ মাসে মাত্র ৫০১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ এক বছরে অপহরণের হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডিজিটাল অপরাধের প্রসারের কারণে অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। আগে যেখানে রাতের অন্ধকারে অপহরণ হতো, এখন তা দিনের আলোতেও ঘটছে। রাইডশেয়ারিং, ব্যবসায়িক লেনদেন বা প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক বা রাজনৈতিক শত্রুতা, যৌন নিপীড়ন এবং আর্থিক লোভও প্রধান কারণ। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, প্রতিটি অপহরণের ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক চক্রগুলো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপহরণ রোধে কাজ করছে। তিনি সতর্ক করেছেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগে সাবধান থাকা এবং সন্দেহজনক ঘটনা দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা ৯৯৯ নম্বরে জানানো।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা চোখে পড়ার মতো। গত ৭ নভেম্বর রাজধানীর দিয়াবাড়ী থেকে ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায় অপহরণ হন। ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়; দুই যুবক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর নওগাঁয় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়; র্যাব অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও চক্রের হোতা গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে কলেজছাত্র হাসান শরীফকে মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করা হলেও র্যাব-১৫ তাকে উদ্ধার করেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “অপহরণের প্রকৃতি বদলেছে। আগে প্রধানত মুক্তিপণ, এখন সামাজিক প্রতিশোধ, প্রেম-বিবাদ ও ডিজিটাল অপব্যবহারও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ