আজ মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টে প্রবাসী সাংবাদিক ও নাগরিক টিভির বার্তা প্রধান নাজমুস সাকিব লিখেছেন,“পুলিশকে দানবিক ভাবমূর্তি থেকে মানবিক পুলিশে রূপান্তর করতে হলে রেজাউল করিম মল্লিকের মতো সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের সঠিক মূল্যায়ন জরুরি।”
তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অংশ রেজাউল করিম মল্লিককে কালিমালিপ্ত করতে সক্রিয়। যদিও সহকর্মী ও অধস্তনদের অনেকেই তাঁকে একজন সৎ, দক্ষ, সাহসী ও নীতিবান কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেজাউল করিম মল্লিক অতীতে একাধিক আলোচিত অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ–সম্পর্কিত কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দমন অভিযানে তিনি টানা তিন দিন现场 উপস্থিত ছিলেন। ইসকন-সম্পর্কিত উগ্রবাদী সদস্য চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করতেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।
নাজমুস সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক জীবনে কঠিন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও রেজাউল করিম মল্লিক দায়িত্ব পালনে কখনোই পিছপা হননি। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই জটিল অসুস্থতায় ভুগছেন, কিন্তু তবুও তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া, মাদারীপুরের শিবচরে একটি বড় দলের বিতর্কিত নেতার মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রেজাউলকে টার্গেট করা হয়। ওই নেতার বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন স্থগিত করে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গ্রুপের ধারণা— মনোনয়ন স্থগিত করানোর পেছনে রেজাউল করিম মল্লিকের ভূমিকা রয়েছে। এরপর থেকেই তাদের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
গত ৭ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে রেজাউল করিম মল্লিককে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে ১৩ মার্চ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) পদ থেকে সরিয়ে সদর দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়। অভিযোগ আছে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকসের প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এমনকি শিবচরে ওই বিতর্কিত নেতার অনুসারীরা এ পদোন্নতি বদল নিয়ে মিষ্টি বিতরণও করেন।
রেজাউল করিম মল্লিক ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিআইডির ডিআইজি থেকে ডিবির প্রধান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অতীত সরকার আমলে তিনি যথেষ্ট পদবঞ্চনার শিকার হন এবং দীর্ঘদিন কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।