রেসকিউ ১১২২-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে দারাজিন্দা ও ডিআই খানের মুফতি মাহমুদ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স, একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এবং ২৫ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী এতে অংশ নেন। ডেরা ইসমাইল খান থেকেও আরও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় জনবল পাঠানো হয়। তবে এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা না থাকায় উদ্ধারকাজে যোগাযোগে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেসকিউ ১১২২।
পুলিশ জানিয়েছে, আমান মেলা চেকপোস্টটি মুগল কোট ও দারাজিন্দার কাছাকাছি ডিআই খান-কোয়েটা সড়কে অবস্থিত। এটি খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা। বিস্ফোরণের ধরন ও কারণ জানতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
এদিকে হামলার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
গভর্নর এ হামলার জন্য ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান খাওয়ারিজ’-এর ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বোঝাতে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দ ব্যবহার করে থাকে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার দায় টিটিপি স্বীকার করেছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বাড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে ডিআই খানের দারাবান এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে টিটিপির হামলা ঠেকানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাটে পুরোনো পুলিশ লাইনসে বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হন। পরে রাতভর অভিযানে আট হামলাকারী নিহত হয়।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংযুক্ত জেলাগুলো বাদ দিয়ে মূল খাইবার পাখতুনখোয়ায় আগস্টে ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৩৬। অর্থাৎ এক মাসে হামলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।