বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে।
ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রার পর বিমানটির স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের যাত্রাবিরতি শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে আবার উড্ডয়ন করবে ফ্লাইটটি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রায় তাকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।
এবারের সফরে তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রয়েছেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।
প্রতিনিধি দলে মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট সাতজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নাম প্রতিনিধি দলের তালিকায় থাকলেও তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
সফরের শুরুতে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বৈষম্য ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন তিনি। রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এ ছাড়া সফরের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এটাই প্রথম অংশগ্রহণ। সফরে তিনি নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।