স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন, চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, নিউমার্কেট ও হরিপুরসহ কয়েকটি এলাকায় মাদকের পাশাপাশি এ ধরনের রং করা ট্যাবলেটও বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কম দামে ইয়াবা পাওয়ার আশায় আসা তরুণদের কাছে এসব বড়ি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মায়াপিল নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ডুরালাক্স নামে কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধে লাল বা গোলাপি রঙের কালি লাগিয়ে সেগুলো ইয়াবা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্কার বা সাইনপেনের কালি ব্যবহার করা হয়।
আইডি বাগানপাড়ায় রাফিউল ইসলাম নামে এক মাদকসেবী জানান, এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৮০ টাকা করে দুই পিস ‘মাল’ কিনেছিলেন। পরে সেবনের পর বুঝতে পারেন সেগুলো ইয়াবা নয়। তার ভাষ্য, ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর পায়খানার বেগ বেড়ে যায়।
সামসুল ইসলাম নামে আরেক মাদকসেবী বলেন, মায়াবড়িতে রং করে ইয়াবার মতো দেখিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, মায়াপিল কোনো মাদক নয়; এটি গর্ভনিরোধক ওষুধ। এর সাদা ট্যাবলেটে ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল ০.০৩ মিলিগ্রাম ও লেভোনরজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম থাকে। বাদামি ট্যাবলেটে থাকে ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম। ২৮ ট্যাবলেটের প্যাকেটে ২১টি হরমোনযুক্ত এবং সাতটি আয়রন ট্যাবলেট থাকে।
মায়াপিল মূলত গর্ভধারণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। হরমোনের প্রভাবে এটি ডিম্বস্ফোটন দমন করে এবং জরায়ুমুখের শ্লেষ্মায় পরিবর্তন এনে শুক্রাণুর প্রবেশ কঠিন করে।
অন্যদিকে ডুরালাক্স ৫ মিলিগ্রামের কার্যকর উপাদান বিসাকোডিল। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি রেচক ওষুধ। চিকিৎসা পরীক্ষার আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতেও এটি ব্যবহার করা হয়। তবে অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে যেতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ডুরালাক্স ও মায়াবড়ি কোনো মাদক নয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অপরাধ বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পাল বলেন, সস্তা ওষুধ রং করে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে বিক্রি করা মাদক ব্যবসার নতুন কৌশল হতে পারে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়লে অসাধু চক্রগুলো মাদকসেবীদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের পদ্ধতি নিতে পারে।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বিভিন্ন মাদক বিক্রির আস্তানা উচ্ছেদ ও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মায়াবড়ি বা ডুরালাক্স রং করে ইয়াবার নামে বিক্রির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওষুধে রং করে বিক্রি করা নতুন কৌশল হতে পারে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।