নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। এ জন্য তারা উবারের গাড়িতে উঠেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, পথে এমিলির বন্ধু অসুস্থ হয়ে গাড়ির ভেতরে বমি করেন। পরে চালক ভু ট্রান ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে দুজনকে নামিয়ে দেন। তারা তখন মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে সড়কে থাকার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় এমিলির মৃত্যু হয়।
পরিবারের আইনজীবীরা বলেন, যাত্রী দুজনকে মহাসড়কের পাশে নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া বা অন্য কোনো সহায়তার ব্যবস্থা করেননি ট্রান। বরং গাড়ির ভেতর বমি হওয়ায় সেটি পরিষ্কারের জন্য উবারের কাছে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি জানান তিনি।
রায়ে বিচারক স্টোন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ট্রান চাইলে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় তাদের নামিয়ে দিতে পারতেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই সময় ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ির বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এমিলির পরিবারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠান পানিশ, শিয়া অ্যান্ড রাভিপুদি সালিশি সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে। আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির এই প্রক্রিয়ায় একজন নিরপেক্ষ সালিশকারী উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত দেন। এ মামলায় সেই দায়িত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড স্টোন।
তবে সালিশি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে উবার। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, ট্রান উবারের কর্মী নন; তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। ফলে তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় উবারের ওপর বর্তানো উচিত নয়।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে উবার আরও জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে তারা গত কয়েক বছরে প্রযুক্তি, নীতিমালা ও বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।
এদিকে পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, মামলার শুরুতে এমিলির বাবা-মাকে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল উবার। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারকে আর প্রকাশ্যে কথা বলতে হবে না—এমন শর্ত ছিল। পরিবারটি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।