নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন এরদোয়ান। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সম্মিলিত ইচ্ছাকে মাত্র পাঁচটি দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল করে রাখার বর্তমান ব্যবস্থা ন্যায়সংগত নয়। তার ভাষায়, এই কাঠামো বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থাও অর্জন করতে পারেনি।
এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যেই ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংস্থাটি গুরুতরভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, যাদের মধ্যে সামান্যতম মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দয়ার বোধ রয়েছে এবং যারা ন্যায়বিচার ও বিবেককে গুরুত্ব দেন, তাদের পক্ষে গাজায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনি নেতাদের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে তার নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি এ ধরনের বৈষম্য ও অবিচার বিশ্ব বিবেককে গভীরভাবে আঘাত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখনও যারা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের দ্রুত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এরদোয়ান। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ন্যাটো সদস্য তুরস্ক গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও আগ্রাসনের শুরু থেকেই ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান গণহত্যার শামিল। এ বিষয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও বারবার জানিয়েছে তুরস্ক। তবে গণহত্যার অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।
সূত্র: রয়টার্স