উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি সংকট ঘিরে জরুরি বৈঠকে বসেছেন জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর প্রায় দুই মাস পর সৌদি আরবে এই প্রথম সরাসরি আলোচনায় মিলিত হন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেদ্দায় পৌঁছালে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের স্বাগত জানান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি, বৈশ্বিক প্রভাব এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এই শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ, বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি-সহ অন্যান্য নেতারা।
বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় শেখ তামিম জানান, সম্মেলনটি উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে প্রণালিটি পুনরায় চালু করার সম্ভাব্য একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। তাদের মতে, যেকোনো সমঝোতা এমন হতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে ওপেক ও ওপেক+ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে কাতার সতর্ক করে বলেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা